Tuesday, May 23, 2017

 মোবাইল ফোন টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী আবিস্কার।নব্বই দশকের দিকে সীমিত পর্যায়ে এর ব্যবহার আমাদের দেশে শুরু হলেও মোবাইল ফোনের কার্যকারী উপযোগীতা কারনে আজতো দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। দৈন্যন্দিন কর্মকান্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে দেশে লাখ লাখ মানুষ মোবাইল ফোনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। অথচ সভ্যতার এই বৈপ্লবিক প্রযুক্তির সুফল ভোগের পাশা পাশি আমরা যে এর বাইপ্রডাক্ট হিসাবে মারাতœক স্বাস্থ্য ঝুকিও বহন করে চলছে। সে বিষয়ে আমরা অনেকেই সচেতন নই।

বৈজ্ঞানিক গবেশনায় জানা গেছে, মোবাইল ফোন তেজস্ক্রিয়তা বিকিকরন করে।যা মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ।মোবাইল ফোন ব্যবহার কালে এর মাইক্রোওয়েব দ্রুতগতিতে মস্তিস্কে আঘাত হানে।এর থেকে বিকিরিত তেজস্ক্রিয়তার কারণে মানব দেহের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান রক্তের লোহিত কনিকার প্রাচীর ক্ষয় হয়ে যায়।


 এতে হিমোগ্লোবিন সেখান দিয়ে চুইয়ে পড়ে এবং কিডনির ক্ষতি করে। এছাড়া মোবাইল ফোন ব্যবহারে মাথা,কান,গলা ব্যাথা অবসন্নতা, যৌন অক্ষমতা, ঘাম বৃদ্ধি,শ্বাসকষ্ট,রক্তের হিস্টামিন মান বৃদ্ধিকরণ ব্লাডপ্রেসার ও হার্টের সমস্যা সৃষ্টি করে।
এমনকি এর ব্যবহারকারীদের মোবাইলের রেডিয়েশনের প্রভাবে বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে বলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মনে করেন।শিশুদের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন থেকে বিকিরিত তেজস্ক্রিয়তা মস্তিস্ক ও কোষ গঠনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও মোবাইল ব্যবহারে যথেষ্ট ক্ষতির কারন হতে পারে। মোবাইল ফোন ব্যবহারে এধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুকি এড়াতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা য়েতে পারে।*১। মোবাইল ফোন সেটের সঙ্গে উন্নতমানের অ্যান্টি রেডিয়েশন ডিভাইস সংযুক্ত করা। যা স্বাস্থ্যগত ঝুকি হ্রাসের হ্রাসের সহায়ক হবে। *২।একান্ত প্রয়োজন ছাড়া অহেতুক মোবাইল ফোন থেকে বিরত থাকা।এক টানা দু মিনিটের বেশী মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই শ্রেয়। *৩।পারতপক্ষে শিশুদের সামনে মোবাইল ফোনে কথা না বলা। কখনও শিশুদের হাতে মোবাইল না দেয়া । *৪। গভবতী মহিলা থেকে নিরাপদ দুরত্বে মোবাইল ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়া ।*৫।উল্লেখ্য যে শুধু রিং বাজলেই তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায় না।সংযোগ থাকার কারণে মোবাইল সেট সঙ্গে থাকলেও তেজস্ক্রিয়তা ছড়ায়।তাই মোবাইলে বহনকালে প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবম্বন করা উচিত। ব্যক্তিগত সাবধানতা অবলম্বনের পাশাপাশি মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক তথ্য সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। যেহেতু মোবাইল আজ এক বিশাল জনগোষ্ঠির দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। তাই রাষ্টীয়ভাবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর মত আমাদের দেশেও বিকিরনরোধী স্বাস্থ্য সম্মত মোবাইল ফোন ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

No comments:

Post a Comment